29 C
Bangladesh
শনিবার, জুন ২২, ২০২৪

বিসিএস জয়ের গল্প

বিসিএস প্রস্তুতিবিসিএস জয়ের গল্প

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে চাকরির ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীদের প্রথম পছন্দ বিসিএস। সম্মান, চাকরির নিশ্চয়তা, পরিবার ও সমাজের চাওয়া ইত্যাদি কারণে তারা ঝুঁকছেন দেশের প্রথম শ্রেণির এই চাকরির দিকে। প্রতিবছরই বাড়ছে বিসিএস পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। কেউ প্রথমবারে সফল হচ্ছে কেউ ব্যর্থতাকে মেনে নিচ্ছে। প্রথম বিসিএসে সফল হয়েছে এমন একজনের গল্প তুলে ধরবো আজ আপনাদের সামনে। ৪০ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিকস এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এস এম শাহ আলম সজলের বিসিএসের স্বপ্ন জয়ের গল্প। তুলে ধরেছেন বশেমুরবিপ্রবির প্রতিনিধি।

প্রশ্ন: জানার আছে অনেক কিছু্ই‌ তবে আপনার শৈশবের গল্প দিয়েই শুরু করতে চাই।

উত্তর: আমার শৈশব কেটেছে এক প্রত্যন্ত গ্রামে যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ বছর আগে। যেখানে শিক্ষার আলো আজও সেভাবে আলোকিত করে নাই। সেই গ্রামের সাথীদের সাথে আমার ছোটবেলা কেটেছে সারাদিন মাঠে ক্রিকেট, ফুটবল আর নদীতে লাফিয়ে। খুব খেলা প্রিয় ছিলাম। আমার সারাদিন কাটতো ক্রিকেট খেলা করে। আর সেজন্য বাবার হাতের পিটানি খেতাম প্রায় প্রতিদিন। কারণ বাবা ভাবতো আমিও ওদের মতো হয়ে যাবো। তবে শৈশবের আমার সেই বাবার শাসন আমাকে আজ এতদূরে নিয়ে এসেছে।   আমার গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আমি যখন প্রথমে স্কুলে যাই তখন রাস্তাটাও ছিলো কাচা বর্ষায় ভিজে, কাঁদায়  হেটে আমার শৈশব কেটেছে। এর মধ্যেও ছিলো পরম আনন্দ।আজও সেই দিনগুলো আমাকে স্মৃতিকাতর করে ফেলে।

প্রশ্ন: এটা কি আপনার প্রথম বিসিএস ছিলো?

উত্তর: ৪০ তম বিসিএস আমার জীবনের প্রথম বিসিএস ছিলো। এটা আমি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে আবেদন করি এবং তখন আমার M.Sc চলছিলো। ফাইনাল থিসিস সাবমিট ২৭ মার্চ ২০১৯। ৪০ তম প্রিলি পরীক্ষা ৩ মে ২০১৯। সেই যাত্রা শুরু হলো আর এক বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে মহামারী কাটিয়ে ২০২২ এর ৩০ মার্চ সমাপ্তি হলো।

প্রশ্ন: আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা কি ছিল?

উত্তর: জীবন খুব সহজ ছিলো না, সবার জীবনের মতো আমারও কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিলো। যার মধ্যে যেটা সবচেয়ে বেশি মনে হয়েছে সেটা হলো গ্রামের ঐরকম একটা পরিবেশ থেকে উঠে আসার লড়াই, গাইডলাইন দেওয়ার মানুষ ছিলো না। বাবা কৃষি কাজ করতো, মা বাসার কাজ এবং বাবার কাজে সাহায্য করতো এর মধ্য দিয়ে আমাদের দু ভাইয়ের লেখাপড়া। আমি বাবার খেতের পাশেই বিছানা নিয়ে বসে অংক শিখতাম। এটা আমার খুব মনে পড়ে আমি দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সব অংকই বাবার কাছে বুঝে নিতাম। এভাবে চলতে লাগলো, কলেজ পাশ করলাম, তারপর জীবনে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে। আমি গ্রামের একটা ছেলে তখনও বুঝতাম না এভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। পরিবারের তেমন কেউ না থাকায় আমার দিকনির্দেশনার বড়ই অভাব বোধ করতাম। যাই হোক বাবার ইচ্ছায় মেডিকেল কোচিং করলাম। খুলনা শহরে হঠাৎ করে জীবনে প্রথম বাহিরে কোথাও আমার মানিয়ে নিতে  খুব কষ্ট হতো। পড়াশোনা তেমন করতে পারতাম না। সেবছর মেডিকেল এ হলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোথায় কিভাবে এক্সাম হয় সেসব বুঝতে বুঝতে সেবছর শেষ। তখন বিভিন্ন মানুষের কথা শুনতাম। মাঝে মাঝে ভেঙে পড়তাম। পরের বার আর কোচিং এ ভর্তি হলাম না, নিজেই কিছু বই কিনে অনেক পরিশ্রম করলাম। আল্লাহ আমার মনের আশা পূর্ণ করলেন। ভালো সাব্জেক্ট পেয়ে যাওয়ায় আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিকস বিভাগে ভর্তি হলাম। এখান থেকেই আমার জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিলো যা আমাকে আজকের এখানে আসতে পারার মূল ভিত্তি।

আরো পড়ুন:  পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প সাধারণ জ্ঞান

প্রশ্ন: বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, প্রস্তুতি কিভাবে নিয়েছেন?

উত্তর: বিসিএস কি সেটাই জানলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষের দিকে। বিসিএস নিয়ে কোন পরিকল্পনা ছিলো না। আমি সৌভাগ্যবসত প্রথম সেমিস্টারে প্রথম স্থান অর্জন করি যেটা আমার জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দিয়েছিলো। সেখান থেকেই আমার ঘুরে দাঁড়ানো। বাবা মায়ের কষ্টগুলো তখন অনূভব করতে পারতাম, আমার অর্জনে তাদের খুশিটাও আমি তখন উপলব্ধি করতে পারলাম। তারপর আর পেছনে নয়, কঠোর পরিশ্রম করে আল্লাহর রহমতে  ৩.৯৫ সিজিপিএ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম হলাম। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেয়ে গেলাম। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই আমি বিএসসি পাশ করলাম। তখন কখনো ভাবিনি বিসিএস দেওয়া লাগবে। তারপর মাস্টার্স করার জন্য ভর্তি হলাম, তখন চাকরির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলাম। বুঝলাম যে আমার মতো একটা সাধারণ ছেলের অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে আর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমার পঠিত বিষয় তেমন না থাকায় আমি শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভুলতে লাগলাম। নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেললাম। বাস্তবতা দেখে সিদ্ধান্ত নিলাম কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবো না। বিদেশে গিয়ে ভালো কিছু করার সুযোগ ছিলো কিন্তু  আবার দেশে ফিরে আমি ভালো কিছু করতে পারবো না এই চিন্তায় আমি সব ছেড়ে নতুন এক পথে রওনা দিলাম যেখানে ছিলো অনিশ্চিত জীবন। তবে নিজের প্রতি বিশ্বাস ছিলো আমি পড়লে পারবো ইনশাআল্লাহ। তখন থেকে মাস্টার্স করার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বিসিএস এর সাথে পরিচিত হলাম, বুঝতে শিখলাম। তবে মাস্টার্স এ আমাকে প্রথম থাকতে হবে এ চিন্তাও ছিলো। তাই এগুলোর মধ্য থেকে মাস্টার্স এ আমি ৪ আউট অব ৪ সিজিপিএ নিয়ে প্রথম হলাম। শেষ হলো আমার একডেমিক পড়ালেখা ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। ২০১৯ এর ৩ মে প্রিলি পরীক্ষা। শেষ ১ মাস খুব পরিশ্রম করলাম। সব নিজের মতো করে করলাম। কারণ আমার প্রিলির জন্য কোচিং করার সময় ও সুযোগ ছিলো না। ঢাকা এসে পরীক্ষা দিলাম। প্রথম পরীক্ষা, নিশ্চিত ছিলাম না পাস করবো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে উত্তীর্ণ হলাম। এভাবেই মূলত বিসিএস নিয়ে যাত্রা শুরু আমার।

প্রশ্ন: এত চাকুরী থাকতে বিসিএস কেন?

উত্তর: আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নটা যখন ভুলতে লাগলাম তখন ভাবতাম আমার বাবা মা পরিবার আমাকে নিয়ে যে বিশাল স্নপ্ন দেখেছিলো, আমি যে এত কষ্ট করে এতদূর আসলাম, আমার এমন কিছু করা উচিৎ যার মাধ্যমে আমি মানুষের সম্মান, ভালোবাসা পেতে পারি। নিজেকে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায় আর যেখান থেকে আমি পরিবারের আশা পূরণ করতে পারি। তখন দেখলাম একমাত্র বিসএস পরীক্ষা যেখানে ১০০% স্বচ্ছ নিয়োগ হয়, সরকারের একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানের সহিত জীবন কাটানোর সুযোগ রয়েছে। সামাজিক একটা মর্যাদা রয়েছে। এখান থেকে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছুই করার সুযোগ রয়েছে।  যদিও ভীষণ প্রতিযোগিতামূলক এবং সময়সাপেক্ষ তারপরও আমি তখন এ পথেই যাত্রা শুরু করলাম। অন্য কোন চাকরি আমাকে কখনো মন থেকে টানেনি। তাই বিসিএস কেই আমি ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিলাম।

প্রশ্ন: আপনার সফলতার আড়ালে নিশ্চয় হতাশার অনেক গল্প রয়েছে, সেগুলো জানতে চাই?

উত্তর: কোন সফলতাই মসৃণ নয়। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যায়। আমার পথটাও মসৃণ ছিলো না। বিশেষ করে মাস্টার্স শেষ করে যখন মাত্র চাকরির বাজারে ঢুকলাম ২০১৯ সালে তখন মাত্র একটা বিসিএস প্রিলি দিলাম আর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আমার লিখিত হয়ে গেলো। তারপর এক মহাবিপর্যয় নেমে আসলো সবার জীবনে বিশেষ করে বেকারদের উপর এক অভিশাপ। করোনার কারণে থেমে গেলো সব যাত্রা। দীর্ঘ প্রতিক্ষা। তখন বাসায় বসে থাকা আর গভীর চিন্তা আমাকে ঘিরে ধরতো মাঝে মাঝে। পরিবার সবসময় পাশে ছিলো কিন্তু গ্রামের মানুষের কথার আঘাত মানুষিকতাকে দুমড়েমুচড়ে দিতো। তাদের কে বোঝাবে এখন পরীক্ষা বন্ধ এই করোনায়, সরকারি চাকরি দীর্ঘমেয়াদি। যাই হোক এগুলোর মধ্যে বাবা মা এর কঠোর পরিশ্রম আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে সত্যি তবে তাদেরকে আর কত অপেক্ষা করাবো এসব ভাবতে ভাবতে আমার খুব চিন্তা হতো। তবে হতাশ হইনি আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম, আর যেহেতু এই বিসিএসটা লিখিত দিয়েছি সেই আশায় বসে ছিলাম। আর তার মধ্যে আর একটু সাহস পেলাম যখন এর মধ্যে আরও দুইটা বিসিএস এ প্রিলি পাশ করলাম। কিন্তু ঐ যে গ্রামে যাওয়া দায়, কারও সামনে বের হওয়া মানেই সেই একই প্রশ্ন। কে বোঝে ৩ টা বিসিএস এ পাস করেছি। আমি নিজেও বাসায় গেলে ঘরেই থাকতাম তেমন কারও সাথে দেখা না করার চেষ্টা করতাম। তাই হতাশা বলতে এই দীর্ঘ সময় মহামারির ফলে থমকে যাওয়া পৃথিবীর মাঝে বেকারত্ব যে কতটা কষ্টের আর হতাশার সেটা শুধু বেকার ছেলেটাই বুঝবে আর কেউ নয়।

আরো পড়ুন:  বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) এর তিনস্তর বিশিষ্ট পরীক্ষা পদ্ধতি

প্রশ্ন: দরিদ্রতা কি বিসিএস এর বাধা হতে পারে ? কি মনে করেন?

উত্তর: দরিদ্রতা মানুষের জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে তবে এটাকে কেউ যদি সহ্য করে এগিয়ে যেতে পারে সে সফল হবে নিশ্চিত। হ্যা বিসিএস এ দরিদ্রতা কিছু ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করে তবে খুব বেশি একাগ্রতা, আর দৃঢ় সংকল্প থাকলে সে অবশ্যই ভালো করতে পারে। যেহেতু বিসিএস বেশ সময়সাপেক্ষ ও অনিশ্চিত যাত্রা তাই এখানে কিছুটা রিস্ক থাকে। তবে এটাও ঠিক নো রিস্ক নো গেইন। আমার নিজের ক্ষেত্রেও পরিবার নিম্ন মধ্যবিত্ত। বাবা যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছে সারাজীবন তারপরও তাদের যাতে একটু কষ্ট কম হয় সেজন্য নিজে সারাজীবন টিউশনি করিয়েছি। তাই চ্যালেঞ্জ থাকলেও দারিদ্র্যের মধ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

প্রশ্ন: পর্দার আড়াল থেকে কেউ অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে?

উত্তর: অবশ্যই আমাকে পেছনে থেকে সাহস দিয়ে অনুপ্রেরণা দিয়ে সাহায্য করেছে অনেক মানুষ। যার মধ্যে আমার বাবা-মা, আমার ছোট ভাই, ছোট মামা আর আমার সহধর্মিনীর কথা বলতেই হয়। এছাড়াও আমার পরিবারের অন্য সদস্য যারা আছে সবার অবদান আছে, আছে আমার শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা। এক্ষেত্রে আমার সহধর্মিনীর কথা বলতেই হয় যেভাবে আমার বেকার জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কষ্ট সহ্য করে আমাকে সাহস দিয়ে এতদূর আসতে সাহায্য করেছে। এত দীর্ঘ সময় সে আমার সংগ্রাম দেখেছে একবারে পাশে থেকেই। কখনো বিচলিত না হয়ে আমাকে সাহস দিয়েছে। তার কাছে আমার অনেক ঋণ। আর আমার বাবা মা এর কথা আর একটু বলতেই হবে। তারা আমার উপর কখনো বিশ্বাস হারায়নি। আস্থা রেখেছে শেষ দিন পর্যন্ত। আমার বাবার রোদে পোঁড়া ঘর্মাক্ত মুখ ও শরীর আমাকে তীব্র বেগে ছুটে চলতে সাহায্য করেছে। আমার মায়ের ভেঙে যাওয়া শরীর নিয়ে সারাদিনের পরিশ্রম আমাকে শত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। আমি ক্লান্ত হয়ে গেলে এই মানুষগুলোর কথা চোখ বন্ধ করে ভাবতাম তখন আমি সব ক্লান্তি ভুলে যেতাম।

প্রশ্ন: কাকে বেশি মনে পড়ে?

উত্তর: আমার আজ এই সফলতায় দুটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে যাদের কাউকেই ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলতে পারবো না। আজ তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। একজন আমার নানা আর একজন আমার দাদী। আমার নানা ছোট বেলা থেকেই আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতো। আর আমার দাদী আমার জীবনের আর এক মূল্যবান সম্পদ ছিলো। আজ দুজন মানুষ সবচেয়ে বেশি খুশি হতো। আমার সবসময় তাদের কথা মনে পড়ে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে কি পরিকল্পনা কি রয়েছে?

উত্তর: ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ আমার স্বপ্ন এখন অসহায়, দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু করা। যারা হয়তো আর একটু সাপোর্ট পেলে অনেক দূর যেতে পারবে তাদের জন্য কিছু করা। নিজ এলাকায় শিক্ষার মান বাড়াতে কাজ করতে চাই। গ্রামের মানুষগুলোকে শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসতে চাই। সর্বোপরি সরকারের একজন কর্মচারী হিসেবে সততার সাথে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

আরো পড়ুন:  চাকরির জন্য পদ্মা সেতু সম্পর্কে যে তথ্যগুলো জানা দরকার

প্রশ্ন: নতুন যারা বিসিএসে আসতে চায় তাদের জন্য কি পরামর্শ থাকবে?

উত্তর: বিসিএস একটা চাকরিমাত্র। আবার শুধু চাকরি নয় এর মধ্যে রয়েছে অনেক স্বপ্নছোঁয়ার পরম তৃপ্তি। যে যেভাবে নিবে তার কাছে তেমনই। যারা বিসিএস এ আসতে চায় তাদের জন্য কয়েকটি কথাঃ
– দেশের জন্য কাজ করার মানুষিকতা তৈরি করা।
– কঠোর অধ্যবসায়ী হওয়া।
– অসীম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে পারা।
– কৌশুলী হওয়া। এই গুণাবলীগুলোর সমন্বয় একজন বিসিএস প্রত্যাশীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: বারবার চাকুরী পরীক্ষা দিয়েও বার্থ হয়েছেন,  হতাশ হতে হয়েছেন নিশ্চয়। কিভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন?

উত্তর: আমার জীবনে চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতা তেমন আসেনি কিন্তু মহামারীতে আমার চাকরির পরীক্ষা ঝুলে থাকায় বেশি হতাশ হয়েছি। যেমনঃ -আমি ৩ টা বিসিএস প্রিলি দিয়েছি ৩ টাই পাশ করেছি আলহামদুলিল্লাহ।
– ৮ টা ব্যাংকে পরীক্ষা দিয়েছি সবগুলোই পাশ করেছি কিন্তু ফাইনাল রেজাল্ট আজও হয়নি।
– খাদ্য অধিদপ্তরের ভাইভা ছিলো ৭ এপ্রিল ২০২২
– সিজিএ অডিটর ভাইভা ডেট পেন্ডিং।
এভাবে পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছি খুব কম কিন্তু অনন্ত অপেক্ষার হতাশা ছিলো।

প্রশ্ন: বিসিএস শিক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত তালিকায় আপনার নাম দেখার পর সেই অনুভূতি কেমন ছিল?

উত্তর: জীবনের প্রথম চাকরি পাওয়ার অনুভূতি লিখে বোঝানো যায় না। আর সেটা যদি হয় স্বপ্নের চাকরি। আমার জীবনের প্রথম চাকরি আর সেটা যে বিসিএস ক্যাডার অফিসার হতে পারবো প্রথমবারেই এই পরম সুখ আমার জীবনকে শীতল করেছে এক অন্যরকম প্রশান্তিতে। রেজাল্টের পুরা মাসটাই চিন্তায় কেটেছে। রেজাল্টের আগের রাত নির্ঘুম কেটেছে আমাদের দুজনেরই। শুধু একটাই চিন্তা ৪ টা বছর যে স্বপ্ন বুনেছি, বাবা মা সবাই যে আশা নিয়ে বসে আছে তাদের আমি কিভাবে সান্ত্বনা দেবো যদি খারাপ কিছু হয়। ৪০ বিসিএস এক মহাকাব্যের মতো। তাই সেই দিন রেজাল্ট দেওয়ার পর নিজের রোলটা দেখতে পেয়ে এক পৃথিবী ভার যেন নেমে গেল আমার বুকের উপর থেকে। আমি ফিরে পেলাম আমার অনেক আগে হারিয়ে যাওয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস। বাবা মা কে ফোন দিয়ে কাঁপা কণ্ঠ নিয়ে উভয় পাশে কথপোকথন। দুপাশেই যেন অঝোরে ঝরছে সুখের বৃষ্টি। সঙ্গে সঙ্গে আমার পৃথিবীটা বদলে গেলো। আমার আকাশটাতে মেঘ সরে গিয়ে রৌদ্র ছড়িয়ে গেলো নিমিষেই। আমি পেলাম এক পৃথিবী ভালোবাসা, সম্মান, আর সুখ। আল্লাহর কাছে এ আমার পরম পাওয়া।  আমি চিরকৃতজ্ঞ পরম করুণাময় আল্লাহপাকের কাছে।

প্রশ্ন: ক্যাম্পাসের ছোট ভাইদের প্রতি কি পরামর্শ থাকবে।

উত্তর: আমার ক্যাম্পাসের অনুজদের প্রতি আমার অনেক কৃতজ্ঞতা। তাদের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি আমি সারাজীবন তাদের ভালোবেসে সেটা শোধ হবে না। তাদের সে আস্থা আমার উপর ছিলো এটা আমার অনুপ্রেরণার আরেক উৎস।  তাই সকল অনুজদের জন্য পরামর্শ হলো-  তোমরা যেকোন জায়গা থেকে যেকোন অনন্য উচ্চতায় যেতে পারবে এই বিশ্বাস রাখবে। নিজেদের ছোট ভাববে না কখনো। নিজেদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে খুজে বের করো, তারপর সেদিকে কঠোর পরিশ্রম করো আল্লাহ তোমাদের সহায় হবেন। প্রত্যেক মানুষের ভেতরে একটা বিশেষ গুণাবলী থাকে যার মাধ্যমে সে সাফল্য পেতে পারে। সেই বিশেষত্বকে খুজে বের করার দায়িত্ব তোমার। নিজেদের লক্ষ্য স্থির করো, লক্ষ্যে অটুট থাকো। মনে রাখবে একাগ্রতা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম আর ভাগ্য মিলিয়েই সাফল্য আসে। কখনো হতাশ হবে না। তোমাদের জন্য আমার হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসা ও দোয়া রইলো।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles