30 C
Bangladesh
শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

উচ্চ শিক্ষার মূল লক্ষ্য কতোটা কার্যকর হচ্ছে? 

মতামত ও ফিচারউচ্চ শিক্ষার মূল লক্ষ্য কতোটা কার্যকর হচ্ছে? 

বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষায় ইদানিং নতুন মাত্রার ঢেউ দেখা যায় অন্য দেশের তুলনায়। কিন্তু এ হাল কেনো? আর কিভাবে শুরু হলো উচ্চ শিক্ষার নামে ঢুকে শুধু চাকরির বাজারের দিকে ছুটা? এখন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখাকে বিশাল এক জ্ঞান ভান্ডারের লাইব্রেরি বলতে পারবো না। বলাটাও অনুচিত বলে বিবেচিত হবে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞদের কাছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো নতুন কিছু আবিষ্কারের কারখানা, ভিন্ন আঙ্গিকে ও নতুন রস যুক্ত করে সাহিত্য সৃষ্টির উৎপত্তিস্থল, বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদদের আড্ডাখানা।

আজ সেই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে প্রেম নিবেদনের কারখানা, গন্ডগলের আস্তরখানা, চারিদিকে মিছিলের উৎসব আর একগাধা বই না বুঝে মুখস্থ করে বিসিএস ও সরকারি চাকরির পরীক্ষায় পাল্লাপাল্লি। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ে হয়ে যায় বিসিএস ক্যাডার। মেডিকেলে ভর্তি হয় ডাক্তার হওয়ার আশায়, আর বের হয় পুলিশ ক্যাডার নিয়ে। তাহলে বুঝতে বাকি থাকে না ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আবিষ্কারের দিকে হাঁটছে নাকি মুখস্থ বিদ্যার দিকে।

আরো পড়ুন:  ডিআইইউ'র সিভিল ডিপার্টমেন্টর ইফতারি পার্টি ও দোয়া আয়োজন

আমরা প্রাইমারি স্কুলে অ আ ক খ মুখস্থ করেছি, কিভাবে গুন ভাগ করতে হয় শিখেছি। উচ্চ মাধ্যমিক থেকে আমাদের মুখস্থ বিদ্যা শুরু, আর পাশ করার দিকে ছুটা। কলেজে উঠে মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বইয়ে যা আছে বুঝে বুঝে পড়ো, দরকার হলে মুখস্থ করো। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে হবে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাই, আবার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় সরকারি চাকরি করতে হবে। সাধারণ জ্ঞান মুখস্থ করো, ঐ বই ঠাটা মুখস্থ করো। আগেই প্রিপারেশন নাও, নয়তো চাকরির বাজার থেকে পিছিয়ে পড়বে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানেটা কোথায় থাকলো?

বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটা শুধু আমরা উচ্চারণ-ই করি। কিন্তু এর সাথে ‘বিশ্ব’ শব্দটা আছে তা বেমালুম ভুলে যাই। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা বিশ্বের দরবারে নিজেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়ার এক কেন্দ্রবিন্দু, জ্ঞানের ঝুড়িকে বাড়িয়ে পাল্লা দিয়ে চলা। বাংলাদেশের পতাকাকে কাঁধে নিয়ে বিশ্বের উদ্ভাবনী মঞ্চে নিজেকে তুলে ধরা। আর তা না করে জীবনকে বিলিয়ে দিচ্ছি নিজেদের আশেপাশের গন্ডিতেই। বিশ্বে কার্বন-ড্রাই-অক্সাইড এর সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে পৃথিবী, ধ্বংসের দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যেখানে গবেষণামুখী হওয়া দরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে, সেখানে বিমুখী হচ্ছে।

আরো পড়ুন:  সত্যায়নের নামে অযথা হয়রানি বন্ধ হোক

গবেষণামুখী করার জন্য গবেষণায় বাজেট বাড়াতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি)। নিজ ডিপার্টমেন্টের পড়াশোনা ও বিস্তর জ্ঞানলাভ এবং গবেষণা থেকে কেনো শিক্ষার্থীরা দূরে সরে যাচ্ছে তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে অতিশীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন উদ্যোক্তা তৈরি করুন দেশের যুবসমাজকে। কিন্তু আমরা কর্ণপাত দেইনি। তৈরি করছি বই মুখস্থ করা একদল রোবট। যাদের নিজস্ব কোনো চিন্তাভাবনা নেই, তারা শুধু বইয়ের বাক্যে কথা বলে।

এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। ১) বই মুখস্থ বিদ্যা থেকে সরিয়ে আনতে হবে। এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আগে এর পরিকল্পনায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কেনো তাদের শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত শিক্ষার আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন তা নির্ধারণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।  ২) আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিযোগিতা আছে যা অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা জানেনই না কিভাবে অংশগ্রহণ করতে হয়। এজন্য প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের সামনে এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে তারা সহজে বুঝতে পারে প্রতিযোগিতায় কিভাবে অগ্রসর হতে হয়। ৩) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশের দ্বার ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের উপর নির্ভর করে কোন ধরনের শিক্ষার্থী ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে। যেখানে অনার্স পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীর উচিত অন্যকে জ্ঞান দেওয়া, সেখানে নিজে প্রাইভেট পড়ে জ্ঞানের পরিসীমা সঙ্কীর্ণ করছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও আছে। সবকিছু বিবেচনা করে, সিলেবাস নতুন ভাবে কোনো কিছু সংযোজন করা যায় কিনা বিবেচনা করা।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles