31 C
Bangladesh
বুধবার, জুলাই ১৭, ২০২৪

পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা, পৃথিবীর ৬টি আশ্চর্য ঘটনা যা জেনে আপনি একদম আশ্চর্য হয়ে যাবেন  

অন্যান্য খবরপৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা, পৃথিবীর ৬টি আশ্চর্য ঘটনা যা জেনে আপনি একদম আশ্চর্য হয়ে যাবেন  

আমাদের এই মহাকাশ যেমন রহস্যময়,তেমনি পৃথিবীতেও এমন অনেক ঘটনা ঘটে চলেছে যার কোনো ব্যাক্ষা বিজ্ঞানী এমনকি কেউ দিতে পারেনি। পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা, জিনিস, বিষয় রয়ে গেছে যার সমাধান এখনো পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব হয়নি। আর আজকে আলোচনায় থাকবে পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও রহস্যময় জায়গা।

মারফা লাইট, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র 

মারফা লাইট, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র 

রহস্যময় আলোর খেলা ঘটে চলেছে টেক্সাসের মারফা নামের একটি জায়গায়। সেই আলোকে ”ভৌতিক আলো হিসেবে” আখ্যায়িত করা হয়। কারন, এই জায়গার উপরে ৬ ধরনের আলোর দল আকাশের উপরে ঘোরাঘুরি করছে। অনেকটা ভৌতিক ব্যাপার। ১৮৮৩ সালে প্রথম এ আলোর নৃত্য দেখতে পায় পাশের অঞ্চলে কাজ করা কিছু মানুষে চোখে। স্থানীয় আমেরিকানরা এ আলোকে ধারণা করছে, মহাকাশ থেকে যে তারা পতিত হয়, সেসব তারার কারনেই এ ধরনের আলো দল বেধেঁ আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এর পরে আর যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার আর কোনো ব্যাক্ষা নেই তাদের কাছে। আধুনিক যুগে মারফা লাইট (Marfa Light) এর উপস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট করতে থাকে। আলো গুলোর সাইজ প্রথমে বাস্কেটবলের মতো থাকে। তারপর বিভিন্ন আকার গঠন করতে থাকে। এ পর্যন্ত ৬ টি আলোর দল প্রতিনিয়ত আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঐ জায়গাকে কেন্দ্র করে। সাদা, লাল, নীল, হলুদ, কমলা এবং সবুজ কালারের আলোর দল। তবে এ আলো কোনো ধরনের বিপদ বা বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করতে দেখা যায়নি এখনো। এয়ারফোর্স, আবহাওয়াবিদ,পদার্থবিদ ও গবেষকেরা এ ”মারফা লাইট” সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ব্যাক্ষা দিয়েছে কিন্তু কেউ কারো সাথে একমত নয়। অনেকে ব্যাক্ষা দিয়েছে এ ধরনের আলো স্পেসশিপগুলোর কারনে ঘটতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী এই আলোর রহস্য খুব তাড়াতাড়ি বের করতে সক্ষম হবে তারা। আরো বলেছে পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও রহস্যময় জায়গা নিয়েও তারা গবেষণা চালাচ্ছে।

নিকুমারো দ্বীপ, ভারত মহাসাগর

নিকুমারো দ্বীপ, ভারত মহাসাগর

আর্হার্ট, আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে একক ভাবে উড়তে পারা পৃথিবীর প্রথম মহিলা হিসেবে বিখ্যাত, যা তিনি ১৯৩২ সালে অর্জন করেন, যখন তার বয়স ছিলো মাত্র ৩৪ বছর। আর এই সাহসী অ্যাডভ্যাঞ্চারার পাইলট আমেলিয়া ইয়ারহার্ট ১৯৩৭ সালে বিমান নিয়ে নৌচালক ফ্রেড নুনানকে বিশ্বব্যাপী উড়ানোর সময় অদৃশ্য হয়ে গেলেন। জুটিটি রেডিওতে প্রকাশ করে, তারা গ্যাসের বাইরে চলে গেছে এবং তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেকে বলছে তারা সমুদ্রে পড়ে গেছে অনেকে বলছে জাপানিরা তাদেরকে আটকে রেখেছিলো। কিন্তু সব থেকে বিশ্বাসযোগ্য যে তথ্য তা হলো, তারা গার্ডনার দ্বীপে ক্রাশ করেছে, যা বর্তমানে নিকুমারো দ্বীপ নামে পরিচিত। এই দ্বীপটি অবিচ্ছিন্ন প্রবালপ্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি দ্বীপ, যার আয়তন ৪.৪ বর্গমাইল এবং হাওল্যান্ড দ্বীপ থেকে ৪০৬ মাইল দূরে অবস্থিত। আর এখনো বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন যে কেনো, এবং কিভাবে তারা নিখোঁজ হলো। আর আজও তা অমীমাংসিত একটি রহস্য রয়ে গেছে। যা অমীমাংসিত  পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও জায়গা এর মধ্যে একটি।

আরো পড়ুন:  কেরানীগঞ্জ উন্নয়ন সোসাইটির ঈদ উপহার পেল দুই শতাধিক শিশু

বারমুডা ট্যায়াঙ্গেল 

বারমুডা ট্যায়াঙ্গেল 

মিয়ামি, বারমুডা, ফ্লোরিডা এবং পুয়ের্তো রিকোর মধ্যবর্তী উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি রহস্যময় অংশ। যেখানে অনেক জাহাজ, বিমান এখানে এসে কোথায় নিখোঁজ হয়ে গেছে এখনো জানা সম্ভব হয়নি। সবগুলো ঘটনার মধ্যে অন্যতম যে ঘটনাটি এখনো মানুষের আলোচনায় রয়ে গেছে তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানের চিরতরে নিখোঁজ হওয়া। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নামক মহাসাগরের এই অংশে এসেই পাইলট হঠাৎ করেই বিচলিত বোধ করা শুরু করে, যা জানা যায় কন্ট্রোল রুম কক্ষ থেকে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল প্রায় ৫,০০,০০০ বর্গমিটার মহাসাগর জুড়ে বিস্তৃত। যা অমীমাংসিত পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও জায়গা এর মধ্যে অন্যতম। ক্রিস্টোফার কলোম্বাস সাগরপথে পৃথিবী ভ্রমনের সময় এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল সম্পর্কে একটি রিপোর্ট করেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক রাতের মধ্যেই আগুনের বৃহৎ শিখা ( যাকে উল্কা বলা হয়) সমুদ্রের মধ্যে বিধ্বস্থ হয় এবং সেই থেকেই এই অঞ্চলে আলোর দৃষ্টিগোচর হয়। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকেও বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে জাহাজডুবি নিয়ে লেখা হয়েছে যা নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই রহস্যে। বিশ শতকের আগে এ অঞ্চল নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না।কিন্তু ১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বার্বাডোজ ও সেপাসি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজটিতে ৩০০ জন মানুষ ও প্রায় ১০,০০০ টন ম্যাঙ্গানিজ ছিলো। যা হঠাৎ করেই কোনো সংকেত ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে যায়। যা নিয়ে  আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে এবং ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতে। এরপরই আবার ১৯৪১ সালেও দুটি সাইক্লোপস জাহাজ নিখোঁজ হয়ে যায় কোনো কারন ছাড়াই। আর সেই থেকেই মানুষ বিশ্বাস করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল দিয়ে কোনো জাহাজ গেলে হয়ে হারিয়ে যায় না হয় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন:  মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রযুক্তি জায়ান্ট ফক্সকনের সাথে বৈঠক করেছে

গিজা মরুভূমির পিরামিড রহস্য, মিশর

গিজা মরুভূমির পিরামিড রহস্য, মিশর

সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে রহস্যময় একটি নাম গিজা শহরের সুউচ্চ পিরামিড। যার সন্ধান পাওয়া যায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বছর আগে। পিরামিডের প্রতিটি ব্লক ২.৫ টন এবং কাঠামোটি ৪৮১ ফুট উঁচু। যেখানে মিশরীয় রাজাদের মৃতুর পর এসব পিরামিডের ভিতর সমাহিত করা হতো। মানুষের মধ্যে আরেকটি বিষয় নিয়ে এখন নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তা হলো, খুফু পিরামিডের নিচে লুকিয়ে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের একটি নৌকা বের করা হয়েছে। কেন রয়েছে এসব নৌকা পিরামিডের নিচে, থাকার কারন কি? মিশরীয় লোকজন বিশ্বাস করে, মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হবে এবং তারা স্বর্গ বা নরকে যাবে। কিন্তু সেই যাতায়াতে ফারাহ রাজাদের নৌকার প্রয়োজন হতে পারে। তাই তারা রাজাদের সমাধি প্রস্তুতির সময় পিরামিডের নিচে বৃহৎ আকারের নৌকা স্থাপন করে দিতো। যাতে করে তারা পরজগতে চলাফেরা করতে পারেন। যা অমীমাংসিত পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও জায়গা এর মধ্যে সবথেকে বহুল আলোচিত।

সবুজ রঙের মানুষ, ইংল্যান্ড 

সবুজ রঙের মানুষ, ইংল্যান্ড 

কথাটি শুনে আশ্চর্য হচ্ছেন? হবারই কথা, সবুজ রঙের আবার মানুষ হয় নাকি। কিন্তু আশ্চর্য হলেও এটিই সত্য। তবে ঘটনা আজকের নয়। সেই দ্বাদশ শতাব্দীর গোঁড়ার দিকের ঘটনা। ইংল্যান্ডের উলপিট এলাকায় দেখা যায় সবুজ রঙের দুই ভাই-বোনকে। গায়ের রঙ থেকে শুরু করে পোশাক, চাল-চলন সব কিছুই আলাদা, এমনকি কথাও বলতো অজানা এক ভাষায়। তারা শিম ছাড়া অন্য কোনো খাবারই খেতো না। পরে তার ভাই-বোনের মধ্যে ভাইটি মারা যায়।  বেঁচে থাকে শুধু বোনটি। তারপর সেই মেয়েটিকে ইংরেজি ভাষা শেখানো হয়েছে। সব ধরনের খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করানো হয়েছে। এক সময় দেখা যায় তার গায়ের রঙ পরিবর্তন হতে শুরু করে। পরে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তোমরা কোথায় থেকে এসেছিলে। জবাবে মেয়েটি বলে, আমরা সেন্ট মার্টিন্স ল্যান্ড থেকে এসেছি। তার কথা মতে, সেন্ট মার্টিন্স হলো মাটির নিচের রাজ্য, যেখানে সবার গায়ের রং সবুজ হয়। মেয়েটির কথা আশ্চর্য হয়েছিলো এবং বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ খোঁজার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি। আর অনেকে মনে করেন তারা ভিন দেশ থেকে এসেছে। আর এর আসল রহস্য এখনো অজানাই রয়ে গেছে মানুষের কাছে। পৃথিবীতে এই রকম হাজারো রহস্যময় ঘটনা আছে যার প্রমাণ পাওয়া আদৌ সম্ভব নয়। তাই পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও জায়গা হয়তো সারাজীবনই রহস্যই রয়ে যাবে।

আরো পড়ুন:  জেলেনস্কি গ্লাস্টনবারিকে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেন
নাচের মহামারী

নাচের মহামারী

নাচের মহামারী, কথাটির মধ্যেই কেমন জানি একটা রহস্য রহস্য ভাব আছে। ১৫১৮ সালের জুলাই মাসে অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী হয় পৃথিবী। মিসেস ত্রোফফেয়া নামের এক নারী নাচতে শুরু করেন। কিছুতেই তার নাচ থামছিলো না।  ১ সপ্তাত ধরেই চলতে থাকে তার নাচ। সপ্তাহ পরেই আরো ৩৪ জন ব্যক্তি তার সাথে নাচতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সবাই যোগ হতে থাকে। অবিরাম এক মাস পর্যন্ত চলতে থাকে তাদের নাচ। ধারণা করা হয় ক্লান্তি, হার্ট অ্যাটার্ক, উচ্চ রক্তচাপের কারনে প্রাণ হারায় ৪০০ জন ব্যক্তি। দীর্ঘ এক মাস নাচতে থাকা প্রায় অসম্ভব। আর এসব বিভিন্ন জটিলতার কারনে আজও বিজ্ঞানীরা এর রহস্য উন্মোচন করতে পারেন নি। এই ধরনের আরো অনেক পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা এর মতো প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে আর যেনো তা অমীমাংসিতই রয়ে যাবে।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles