27 C
Bangladesh
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪

নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, সুপেয় পানির অভাব, স্যাঁতসেঁতে মোজাইকের ফ্লোরসহ নানা অব্যবস্থাপনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডরমেটরি। ডরমেটরিতে নানা অব্যবস্থাপনার মাঝেও বিলাসিতার শেষ নেই কর্মকর্তাদের। শিক্ষকেরা মোজাইকের স্যাঁতসেঁতে ফ্লোরে থাকলেও কর্মকর্তা থাকেন টাইলস করা ফ্লোরে। এছাড়া কর্তৃত্ব কাটিয়ে রুমে এসির ব্যবস্থাও করে নিয়েছেন এক কর্মকর্তা। ডরমেটরির এসব অসুবিধা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতেও বিব্রত শিক্ষকেরা।নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
ডরমেটরির আবাসিক শিক্ষকেরা বলেন, একটি শিক্ষক ডরমেটরিতে যে সুযোগ সুবিধা থাকা প্রয়োজন তার কোনটি নেই ডরমেটরিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে ভাগাভাগি করে থাকতে হয়। ডরমেটরির ব্যবস্থাপনায় নানা সংকট থাকলেও কর্মকর্তারা টাইলস করা, এসি রুমে থাকছে। অথচ আমাদের স্যাঁতসেঁতে মোজাইকের ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। যা খুবই লজ্জাজনক ও বিব্রতকর।নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা সূত্রে জানা যায়, ৫ তলা বিশিষ্ট দু’টি ডরমেটরিতে ২৮জন শিক্ষক ও ১০জন কর্মকর্তাদের ভাগাভাগি করে থাকেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তার মধ্যে নিচ তলার তিনটি, ৩০১ ও ৪০২ নং ফ্ল্যাট কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়। ডরমেটরি ঘুরে দেখা যায়, ভবনের অধিকাংশ দেয়াল বিবর্ণ। বিভিন্ন কক্ষের দরজা অকেজো, মোজাইক করা ফ্লোর স্যাতঁসেঁতে।নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
এদিকে শিক্ষকদের কক্ষে নানা সংকট থাকলেও কর্মকর্তারা থাকেন টাইলস করা রুমে। কর্তৃত্বের সুবাদে কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের ফ্ল্যাট টাইলস করে নিলেও শিক্ষকদের ফ্ল্যাটগুলো শেওলাপড়া পুরনো মোজাইক অবস্থায় রয়েছে। ডরমেটরি-২ এর ১০১ নং রুমে টাইলস করা রুমে থাকছেন কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি আবু তাহের, যা ৫ বছর আগে টাইলস করে নেন প্রকেীশলী দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল হাসান।নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
এছাড়া ডরমেটরির দু’টির বাকি ফ্ল্যাটগুলোর নিচ তলায় টাইলস করার অনুমতিও পেয়েছে। যেখানে কর্মকর্তারা সিট বরাদ্দ পাবে। ডরমেটরি-১ এর ৩০১ নং রুমে এসির ব্যবস্থা করে নিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম। অথচ ডরমেটরিতে এসি ব্যবহারের কোন অনুমতিই নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
নিজের রুমে এসি ব্যবহারের বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বলেন, আমি প্রশাসনকে জানিয়ে এসি ব্যবহার করছি। এটা আমার পারসনাল, বিদ্যুাৎ বিল পেমেন্ট করি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী শহিদুল বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা অগ্রধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করি। তেমনি নিচের তলার রুমগুলোতে শেওলা পড়ে যায়, তাই অগ্রধিকার পেয়েছে। এছাড়া আমরা মাঝেমাঝেই সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। নিচের রুমে টাইলস করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সেসময় বাজেটের ছোট একটি অংশ নিয়ে টাইলস করিয়েছিলাম। এটি আমার জন্য তো করিনি, এখানে যে বরাদ্দ পাবে সে থাকবে।
এদিকে ভবনের পিছনের অংশে একাধিক ফ্ল্যাটের গ্রীল ভাঙ্গা। নিরাপত্তার জন্য ভবন দু’টির সামনে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলেও তাও প্রায় অকেজো। একজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বি পালন করলেও সচেষ্ট নয়। গত ২৫ মে রাতে ডরমেটরি-১ এর ২০২ রুমের গ্রীল ভেঙ্গে সহকারী প্রক্টর শারমিন সুলতানার মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। পরে নিরাপত্তার আশঙ্কায় ডরমেটরি ছেড়েছেন ওই শিক্ষক। শিক্ষকদের চাহিদা প্রকৌশলী দপ্তর বরাবর দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী। কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি আবু তাহের বলেন, নিচের তলায় থাকা খুবই অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন। ৪দিন না থাকলে ফ্লোরে শেওলা পড়ে যায়। তাই টাইলস করার জন্য আবেদন করা হয়।নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
এবিষয়ে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষকেরা এখানে যে অবস্থা তা অমানবতার। আগে ডরমেটরি বিষয়গুলোর সাথে যুক্ত ছিলাম না। এখন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি এটি বলতে পারি উপাচার্য মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে ডরমেটরির যে সমস্যাগুলো আছে তা অচিরেই সমাধান করব। তবে ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করব বৈশিক করোনার কারণে একটু সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ। এটা অস্বীকার করার উপায় নাই শিক্ষকদের যে সুযোগ সুবিধা দরকার তা ডরমেটরিতে নাই। কর্মকর্তাদের আলাদা সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, একই ভবনে থাকা সত্ত্বেও যদি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য থাকে তা নিরসন এবং যদি কর্মকতর্রা শিক্ষকদের থেকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে তাহলে কেন এমনটা ঘটছে তা দেখব।নানা অব্যবস্থাপনায় কুবির শিক্ষক ডরমেটরি
সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. আবদুল মঈনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকেঁ পাওয়া যায়নি।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles