29 C
Bangladesh
বুধবার, মে ২৯, ২০২৪

মহানবী (সা.) কে অবমাননার প্রতিবাদ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবির বানিয়ে দিলেন বেরোবি শিক্ষক

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়মহানবী (সা.) কে অবমাননার প্রতিবাদ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবির বানিয়ে দিলেন বেরোবি শিক্ষক

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও তাঁর পরিবার কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে শিবির বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান। একজন শিক্ষকের এমন বিরূপ মন্তব্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১০ জুন) রাতে মশিউর রহমান তার ফেসবুক টাইমলাইনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবির আখ্যা দিয়ে পোস্ট করলে ক্যাম্পাসের ভেতরে-বাহিরে চরম সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাল্টা প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি (মশিউর) লিখেছেন, ‘শিবির ক্যাম্পাসগুলোতে কতটা শক্তিশালী প্রশাসন দেখলো তো। পুরো লিডিং এ ছিল শিবির। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দায়িত্বে থাকা অনেকেই এদের প্রটোকলেও ছিলেন। কি কমু? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের বিরুদ্ধে এক সাথে লড়াই করতে হবে।’

তার ফেসবুকের পোস্টের পরপরই ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ শুরু হয়। তার (মশিউর রহমান) পোস্টের কড়া সমালোচনা করে মুসাদ্দেক নামের এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করে বলেন, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় জুমার নামাজের পর মিছিল হয়েছে। তারা কি সবাই শিবির? মনে রাখবেন বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু। আর বিষয়টা যখন আমাদের প্রিয় নবীকে নিয়ে তখন তো দলমত আসার কথাই আসেনা। প্রতিবাদ করলেই যদি শিবির হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও শিবির।

আরো পড়ুন:  জবির ছাত্রী হলে অগ্নি নির্বাপক প্রশিক্ষণ 

সাদমান নামের এক শিক্ষার্থী কমেন্টে বলেন, সব বিষয়ে রাজনীতি চলে না। নবী সবার তাই বিক্ষোভও সবার। যারা প্রত্যাখান করবে তারা দলচ্যুত।

সোহেল হাসান শুভ কমেন্ট করে বলেন, একজন শিক্ষকের কাছে এই রকম কথা শিক্ষার্থীদের কাছে হতাশাজনক। শিক্ষক কখনো শিক্ষার্থীদের নিয়ে এভাবে লিখতে পারেনা কিন্তু আপনি লিখেছেন। আপনার কাছে কিছু শেখার নাই।। স্যার বলতে লজ্জা হচ্ছে।

সাজ্জাদ হোসেন নামের আরেকজন কমেন্ট করে বলেন, গত কালের বিক্ষোভ মিছিলে দল মত নির্বিশেষে সকল স্তরের শিক্ষার্থীদেরই অংশগ্রহণ ছিল। এমনকি ছাত্রলীগের অনেক ভাইয়েরাও মিছিলে ছিল। আপনার স্ট্যাটাসের কোনো যৌক্তিকতা খুজে পাচ্ছি না।

আশিক মাহমুদ নামে একজন লিখেছেন, স্যার ব্যপারটা কতটা রাজনৈতিক জানি না, কিন্তু আমার ভার্সিটি লাইফে কখনো কোন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা শিবিরের এতবড় মিছিল দেখি নাই। আপ্নে দেখছেন নাকি গত ৬-৭ বছরে?

আরো পড়ুন:  অক্টোবরে শুরু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ

ফাহাদ হুসাইন বলেন, হ্যাঁ, সাধারণ শিক্ষার্থী অনেক ছিল। যেমন: আমাদের ছাত্র মেসের ৩৩ জন থেকে ৩১ জন গিয়েছিল প্রতিবাদ মিছিলে !! তবে, এভাবে হুমকি দেওয়াটা ঠিক হয় নি। সন্ত্রাসীদের মতো হুমকি দিচ্ছে ! তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

অন্য এক পোস্টের কমেন্টে আরেক শিক্ষার্থী ঐ শিক্ষককে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, এত ব্রেন কোথায় রাখে সেটা নিয়ে আমি চিন্তায় বাঁচিনা। আরেকজন হতাশা ব্যক্ত করে লিখেছেন, হায়রে শিক্ষক জাতি। অন্য একজন লিখেছেন, মিছিলে তো আমিও ছিলাম। আমি ছাত্রলীগের একজন একটিভ কর্মী হয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে স্বান্তনা দিয়েছিলাম। আর কিছু করতে না পারি নবীর কটূক্তির প্রতিবাদে মিছিলে তো ছিলাম। মোহাম্মদ জামি লিখেছেন, ইনি শিক্ষক!! বিশ্বাস করতে পারছিনা।

শিক্ষক মশিউরের স্ট্যাটাসের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুশফিকুর রহমান নামে একজন ব্যবহারকারীও। মুশফিকের ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করে মশিউর লিখেছেন‘‘আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি হত্যা হুমকি দানকারী এই ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আগামীকাল কাল মামলা হবে।’’ তবে সেই শিক্ষার্থীদের পোস্টে হত্যার কথা উল্লেখ নেই।

আরো পড়ুন:  কুবিতে বাংলা বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠিত

এদিকে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে আরেক স্ট্যাটাসে শিক্ষার্থীদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিজিটাল আইনে মামলা করার হুমকি দিয়ে পুনরায় পোস্ট করায় শিক্ষক মশিউর রহমানের প্রতি আরো ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তার (মশিউর রহমান) পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তার পোস্টের বিপক্ষে পোস্ট করে এর প্রতিবাদ করছেন।

রাকিবুল নামে একজন তার পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করেছেন, ‘ধন্যবাদ, আপনি বুঝতে পেরেছেন। আপনাকে চেতনার দরে ১ কেজি নোবেল দেয়া হোক।

প্রসঙ্গত, ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাবেক মুখপাত্র নুপুর শর্মা এবং দলটির নয়াদিল্লি শাখার গণমাধ্যম প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁ পরিবার সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার বাদ জুমা বেরোবি ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিজেপির দুই নেতা-নেত্রীর কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles