30 C
Bangladesh
রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪

ঢাবি কেন করোনার টিকা আবিষ্কার করতে পারেনি, উপাচার্য কি জানালেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ঢাবি কেন করোনার টিকা আবিষ্কার করতে পারেনি, উপাচার্য কি জানালেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করতে পারেনি—এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কত মিলিয়ন ডলার, কত মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান ও বিনিয়োগ থাকলে এ ধরনের একটি কাজ (টিকা উদ্ভাবন) সম্পাদিত হয়, সেটি বোধ করি আপনারা সবাই বোঝেন।’

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় (২০১৯-২২) অংশ নিয়ে উপাচার্য ও অ্যালামনাইয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. আখতারুজ্জামান এসব কথা বলেন। এ সভায় বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজকে সভাপতি এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছারকে মহাসচিব করে অ্যালামনাইয়ের ৪১ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা (অ্যালামনাই) অনেকেই বলেন, করোনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভ্যাকসিন (টিকা) আবিষ্কার করতে পারত, কিট উদ্ভাবন করতে পারত। এ ধরনের নানা কথা খুব প্রসঙ্গক্রমেই আসে। প্রতিটি অ্যালামনাই খুব শক্তিশালীভাবে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন করোনার টিকা আবিষ্কার করতে পারল না? এই প্রত্যাশা ও সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গির জন্য আপনাদের ধন্যবাদ দিই। আপনাদের এই হাই এস্টিমেশন (উচ্চাশা) একটি প্রশংসনীয় বিষয়। আপনারা চাইছেন যে বিশ্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একেবারেই এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় হবে। আপনাদের এ প্রত্যাশা অসাধারণ।’

আরো পড়ুন:  রাবিতে ডেঙ্গু সচেতনতায় র‍্যালি ও লিফলেট বিতরণ

অ্যালামনাইদের উদ্দেশে উপাচার্য আরও বলেন, ‘একটি বিষয় একটু মনে রাখবেন, বিশ্বে কয়েক হাজার বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু একটি টিকার নামই ঘুরেফিরে আসছে। সেটি হলো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। অক্সফোর্ড ছাড়াও তো হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রি (শিল্প)-একাডেমিয়া (বিশ্ববিদ্যালয়) অ্যালায়েন্স কত শক্তিশালী! কত মিলিয়ন ডলার, কত মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান ও বিনিয়োগ থাকলে এ ধরনের একটি কাজ সম্পাদিত হয়! সেটি বোধ করি আপনারা সবাই বোঝেন। আপনাদের প্রত্যাশার সফলতা কামনা করি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সম্মান ও মর্যাদা, তার পেছনে অ্যালামনাইদের অসাধারণ ও অনন্য অবদান রয়েছে বলে জানান উপাচার্য আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আপনারা যে যেখানে কাজ করছেন, তাঁদের নৈতিক একাগ্রতা ও ব্যবসায় নৈতিকতা খুবই উঁচু। অ্যালামনাইদের সুনাম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য র‍্যাঙ্কিং, সম্মান ও মর্যাদায় শক্তিশালী মানদণ্ড হিসেবে ভূমিকা রাখে। এই মানদণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক কিছু দিয়েছেন।’

আরো পড়ুন:  ঢাবির সিনেট সদস্যপদে মনোনয়ন পেলেন গভ. কলেজ অব এ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্সের অধ্যক্ষ প্রফেসর ইসমাত রুমিনা

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য বিদায়ী সভাপতি এ কে আজাদ। তিনি বলেন, ‘অ্যালামনাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমি বোঝার সুযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীরা যে এত কষ্টের মধ্যে আছে, অ্যালামনাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে আমি বুঝতে পারতাম না। অ্যালামনাইদের প্রতি আমার অনুরোধ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগের অ্যালামনাইকে আপনারা শক্তিশালী করুন। পয়সার অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়, সেই দায়িত্ব আপনারা নিন। সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আমার অনুরোধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা অবদান রাখতে চাই। সিনেট-সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একটা নীতিমালা করে আমাদের অবদান রাখার সুযোগ করে দিন।’

আরো পড়ুন:  ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন বরণ অনুষ্টানে চমক

সভায় অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে সংগঠনের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন সুভাষ সিংহ রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার। এ কে এম আফজালুর রহমান ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন। গতকালের বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদ্য বিদায়ী মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার। ২০১৯-২২ আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সদ্য বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান রাশিদুল হাসান। আরও বক্তব্য দেন শাইখ সিরাজ।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles