27 C
Bangladesh
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে আনা হবে বীমার আওতায়, বিনিময়ে কি সুবিধা পাবে? 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে আনা হবে বীমার আওতায়, বিনিময়ে কি সুবিধা পাবে? 

কয়েক মাস ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বীমার আওতায় আনা হবে এমন কথা শুনতে পাওয়া যাচ্ছিলো ক্যাম্পাসজুড়ে। এখন সেই বীমার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলো রাবি প্রশাসন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বীমা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বীমার প্রিমিয়াম, স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা থেকে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি, ক্লিয়ারিং পদ্ধতি সব কিছু মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এটা পাস হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে এর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৭তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পায় শিক্ষার্থীদের বীমা পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৬ সদস্য বিশিষ্ট সে কমিটিতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, কোষাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সায়েদুজ্জামান মিলন, একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এইচএম আসলাম হোসেন। 

আরো পড়ুন:  রাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রাথমিক আবেদন থেকে সর্বনিম্ম যে জিপিএ-তে সিলেকশন হয়েছে

 

প্রশ্নঃ বীমার জন্য কত টাকা করে দিতে হবে শিক্ষার্থীদের?  বা এর নিয়ম কি? 

 

শিক্ষার্থী প্রতি বছরে ২৫০ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে।  শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য এর বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তাবিত ২৭০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

 

প্রশ্নঃ এর বিনিময়ে  শিক্ষার্থীরা কি পাবেন?

 

বছরের শুরুতেই ভর্তির ফির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এককালীন প্রিমিয়াম জমা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর বিনিময়ে জীবন বীমার আওতায় থাকা কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে তার পরিবার এককালীন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পাবেন। আর স্বাস্থ্যবীমার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন। আবার বীমার আওতায় থাকা অসুস্থ হওয়া কোনো শিক্ষার্থী যদি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা নেয় সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে এক দিনের চিকিৎসা ব্যয় ২০ হাজার হলেও ক্লেইম করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, হাসপাতালের বিলের কাগজপত্র অথবা ভাউচার জমা দিতে হবে। 

আরো পড়ুন:  রাবিতে রোগ নির্ণয়ে অত্যাধুনিক সাতটি যন্ত্র উদ্বোধন

 

প্রশ্নঃ বীমা কিভাবে করতে হবে?  

 

বীমা সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যক্রম চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা একটি দপ্তর চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের যেন বীমার সুবিধা পেতে কোম্পানির কাছে ধরনা দিতে না হয়, সেজন্য একটি দপ্তর থেকে পরিচালনা করা হবে এ সম্পর্কিত কার্যক্রম। তবে ডিজিটালি করা যাবে সব কিছু। সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে বীমার প্রিমিয়াম জমা দেওয়া থেকে শুরু করে বীমা দাবি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে বীমা সুবিধা পেতে জটিলতা কমবে শিক্ষার্থীদের। 

আরো পড়ুন:  রাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি সন্দেহে ৩৫ জন নজরদারিতে

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সায়েদুজ্জামান মিলন বলেন, পুরো কার্যক্রম আমরা ডিজিটাল করেছি যেন শিক্ষার্থীরা বীমা ক্লেইম করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়। এ ব্যাপারে আমরা খুবই শক্ত অবস্থানে ছিলাম। প্রায় ৯টা কোম্পানি যুক্ত হতে আবেদন করেছিল। আমরা যাচাই-বাছাই শেষ একটাকে সুযোগ দিয়েছি।

 

বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য যখন বীমা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তখন এটা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত, পরবর্তী সিন্ডিকেটে এটা পাস হবে। 

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles